সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ

মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলেছি আমরা?

  • আপলোড সময় : ২০-০৭-২০২৫ ১১:২১:৩৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৭-২০২৫ ১১:২১:৩৩ অপরাহ্ন
মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলেছি আমরা?
বাসাভাড়া নিয়ে সুনামগঞ্জ শহরের রায়পাড়ার মতো বড়পাড়াও মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে - আমরা কি সত্যিই আমাদের মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলেছি? বড়পাড়ায় বাসাভাড়া দিতে বিলম্ব হওয়ায় এক দরিদ্র অটোরিকশাচালক, তার স্ত্রী এবং চার শিশু সন্তানকে ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রেখে চলে যান বাড়ির মালিক। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা এই পরিবার শেষমেশ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তায় মুক্তি পায়। ঘটনাটি কোনো নাট্যকাহিনি নয়, বরং আমাদের সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা একজন ভাড়াটিয়া পরিবারকে এভাবে তালাবদ্ধ করে রেখে দেওয়া শুধু অমানবিকই নয়, এটি মৌলিক মানবাধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং আইনের চোখে অপরাধের শামিল। ভাড়াটিয়ারা সমাজের একটি বৃহৎ অংশ। তারা সাধারণ মানুষ - খেটে খাওয়া, দিন আনে দিন খায় ধরনের জীবন যাপনকারী মানুষ। একজন ভাড়াটিয়া যদি সাময়িক সংকটে পড়ে ভাড়ার টাকা দিতে না পারে, তাহলে তাকে তালাবদ্ধ করে রাখা কি সভ্য সমাজের কাজ? এটি কি আমাদের শিক্ষার, বিবেকের, ধর্মীয় মূল্যবোধের, কিংবা ন্যূনতম মানবিকতাবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? আমরা এমন একটি সমাজে বসবাস করছি যেখানে অল্প সময়ের আর্থিক অসচ্ছলতা কাউকে অপরাধী বানিয়ে দেয়। অথচ সেই ব্যক্তি মাসের পর মাস নিয়মিত ভাড়া দিয়ে আসছিল। দরিদ্রতা যেন এখানে অপমানের নামান্তর। অথচ আমাদের সংবিধান, আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো আমাদের শেখায় - দরিদ্র মানুষকে সহানুভূতির চোখে দেখতে, তাদের পাশে দাঁড়াতে। আমরা প্রশ্ন করতে চাই- যদি এই ঘটনা গণমাধ্যমে না আসত বা যদি তারা ৯৯৯-এ ফোন করতে না পারত, তাহলে কী ঘটতো? কে নিতো দায়? প্রশাসন কি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নেবে? এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তাৎক্ষণিক সাড়া প্রশংসার যোগ্য হলেও, এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, একজন ভাড়াটিয়া মানুষ তাঁর সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে বাঁচার সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখেন। তার আর্থিক দৈন্য কোনোভাবেই তাকে নির্যাতনের সুযোগ করে দিতে পারে না। একজন শিশু, একজন গৃহবধূ, একজন দরিদ্র মানুষ যেন আর কখনও এমন অবমাননার শিকার না হন - এটাই প্রত্যাশা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স